বৃহস্পতিবার, ১১ Jun ২০২৬, ০৪:৩৯ অপরাহ্ন

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে র‌্যাগিংয়ের নামে অন্যায় কাজ চলতে দেয়া যায় না: হাইকোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক, ই-কণ্ঠ অনলাইন ডেস্ক:: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) হলে ছাত্রী নির্যাতনের ঘটনাসহ দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র রাজনীতির নামে র‌্যাগিংয়ের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে পর্যবেক্ষণ দিয়েছে হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে র‌্যাগিংয়ের নামে অন্যায় কাজ চলতে দেয়া যায় না।

বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতির রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ইবি ছাত্রী ফুলপরী খাতুনকে নির্যাতনের ঘটনায় বুধবার এ পর্যবেক্ষণ দেন।

আদালত তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী জড়িত ইবির ছাত্রলীগ নেত্রী অন্তরাসহ ৫ জনকে সাময়িক বহিষ্কার ও একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়টির দেশরত্ন শেখ হাসিনা হলের প্রভোস্ট শামসুল আলমকে প্রত্যাহার করাসহ পাঁচটি নির্দেশনা দেয়।

আদালত বলেন, ‘ছাত্ররাজনীতির যে গৌরবোজ্জ্বল অতীত রয়েছে সেটিকে ধ্বংস করার জন্য কিছু খারাপ মানুষ রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার করে র‌্যাগিংসহ অসামাজিক কাজ করে আসছে। এগুলো দুঃখজনক। এটা চলতে দেয়া উচিত নয়।’

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) আবরার হত্যার পর বিশ্ববিদ্যালয়টি শিক্ষার্থীদের করা রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত পর্যবেক্ষণ দিয়েছিল।

সেই বিষয়টি তুলে ধরে হাইকোর্টের দুই বিচারপতির বেঞ্চ বলেন, দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। এ জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে র‌্যাগিং বন্ধে মুচলেকা নেয়া প্রয়োজন।

আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন রিটকারী আইনজীবী গাজী মো. মহসীন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায়। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী শাহ মঞ্জুরুল হক। হাইকোর্টের আদেশের পরে রিটকারী আইনজীবী গাজী মো. মহসিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে র‌্যাগিং বন্ধে হাইকোর্টের এ আদেশকে মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেন।

ইবির ছাত্রী নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত ৫ ছাত্রী হলেন, ইবি শাখা ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি ও পরিসংখ্যান বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের সানজিদা চৌধুরী অন্তরা, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের তাবাসসুম ইসলাম, আইন বিভাগের ইসরাত জাহান মীম, চারুকলা বিভাগের হালিমা আক্তার ঊর্মি ও ফিন্যান্স বিভাগের মুয়াবিয়া জাহান।

এর আগে মঙ্গলবার ইবি প্রশাসন ও বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন হাইকোর্টে দাখিল করা হয়। অভিযুক্ত ছাত্রলীগের সহসভাপতি সানজিদা চৌধুরী অন্তরাসহ অন্তত ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পায় তদন্ত কমিটি। তদন্ত প্রতিবেদনে চারুকলা বিভাগের শারমীন আক্তার লিমা নামে আরেকজন জড়িত ছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়।

এছাড়া ঘটনার জন্য দেশরত্ন শেখ হাসিনা হলের প্রভোস্ট শামসুল আলম, হাউস টিউটর মৌমিতা আক্তার, ইশরাত জাহানসহ কয়েকজনের দায়িত্বে চরম অবহেলা রয়েছে বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়।

গত ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি দুই দফায় হলের গণরুমে নবীন ছাত্রী ফুলপরীকে রাতভর র‌্যাগিং, শারীরিকভাবে নির্যাতন ও বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করার অভিযোগ উঠে ছাত্রলীগ নেত্রী অন্তরাসহ তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী ফুলপরী খাতুন ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রী।

ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে ১৫ ফেব্রুয়ারি পৃথকভাবে তিনটি তদন্ত কমিটি করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট হল কর্তৃপক্ষ ও শাখা ছাত্রলীগ। এছাড়া হাইকোর্টের নির্দেশেও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন।

এদিকে ইবি ছাত্রী নির্যাতনের ঘটনায় গঠিত প্রতিটি তদন্ত কমিটি নির্যাতনের প্রমাণ পেলেও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি সানজিদা চৌধুরীর বিরুদ্ধে এখনো সাংগঠনিক কোনো ব্যবস্থা নেয়নি ছাত্রলীগ। তিনি এখনো ছাত্রলীগের কমিটিতে বহাল।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com